রান্না করা একটা শিল্প। নতুন নতুন যাঁরা রান্না শিখছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে ভুল হওয়া খুব একটা অস্বাভিক নয়।
তার মধ্যে একটা হচ্ছে রান্না করার সময় বেশি নুন দিয়ে ফেলা।
এই ভুলটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কারণ প্রথম প্রথম রান্নায় প্রত্যেকটা উপকরণের পরিমাণ কম-বেশি হতেই পারে।
নুন হলো এমন একটি উপাদান যেটা ছাড়া কোনো রান্না করা সম্ভব নয়।
কিন্তু এই নুনের পরিমাণও হতে হবে সঠিক পরিমানে, কম হলে খাবার বেস্বাদ হবে আর বেশি হয়ে গেলেই গোলমাল, মুখে তোলা যাবে না সেই খাবার।
বিশেষ করে, রান্নায় নুন যদি কম হয়, তাহলে খাওয়ার সময় তা যোগ করে নেওয়া যেতে পারে পরিমান ও স্বাদ মতো , কিন্তু রান্নার সময় যদি নুন বেশি পরে যায় তাহলে সেই অতিরিক্ত নুন-এর মাত্রা ঠিক করবেন কি ভাবে ?
এই অতিরিক্ত নুনের মাত্রা ঠিক করতে ব্যবহার করতে পারেন কিছু সহজ ঘরোয়া টোটকা।
আর এই সব সহজ ঘরোয়া টোটকা আজকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
সেদ্ধ আলু
তরকারি বা মাছের ঝোলে নুন বেশি হয়ে গেলে তাতে কয়েকটুকরো সেদ্ধ করা আলু দিয়ে দিন। দেখবেন নুনের কটাভাব কমে যাবে।
কাঁচা আলু
একটি কাঁচা আলুকে নিয়ে তার খোসা ছাড়িয়ে মাঝারি আকারের কয়েকটি টুকরো করে নিন।
এরপর ওই টুকরো গুলোকে তরকারির মধ্যে দিয়ে দিন ও ২০ মিনিট রেখে দিন।
এর ফলে এই টুকরো আলুগুলি তরকারির অতিরিক্ত নুন নিজেদের মধ্যে শুষে নেবে।
২০ মিনিট পরে আলুগুলো কে তরকারি থেকে তুলে গরম গরম পরিবেশন করুন।
দেখবেন কেউ বুঝতে পারবে না যে তরকারির
মধ্যে নুনের পরিমান বেশি হয়ে গিয়েছিলো।
ফ্রেশ ক্রিম
তরকারিতে লবণের পরিমাণ কমাতে তাতে ক্রিম যুক্ত করতে পারেন।
এতে তরকারিতে ক্রিমভাব আসবে এবং অতিরিক্ত লবণাক্ততা দূর হবে।
দই
দই- বাড়িতে অনেকেই দই পাতেন বা প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় দই রাখেন।
এক্ষেত্রে অবসসই টক দইয়ের কথায় বলছি।
রান্নার সময় তরকারিতে যদি নুন একটু বেশি পড়ে গেছে বলে মনে হয় বা স্বাদটা বেশি নোনতা হয়ে গেছে বলে মনে হয়, তাহলে এক টেবিল চামচ টক দই তরকারির মধ্যে দিয়ে দিতে পারেন।
এতে তরকারির অতিরিক্ত লবণাক্ততা কমে যাবে আর সাথে স্বাদটাও বাড়বে।
সব তৎকার মধ্যে এটি খাবারের অতিরিক্ত লবনাক্ত স্বাদ
কমানোর সেরা টোটকা।
দুধ
দইয়ের মতোই কাজ করে দুধ।
এটিও তরকারিতে লবণাক্ততা দূর করে পুরো স্বাদে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।
এটি খাবারের লবনাক্ত স্বাদ কমানোর সাথে সাথে একটা মসৃন টেক্সচারও যোগ
করবে খাবারে।
ভিনিগার ও চিনি
খাবার রান্না করার সময় যদি নুনের মাত্রা বেশি হয়ে যায় তাহলে এক চামচ সাদা ভিনিগার এবং তার সমপরিমাণ অর্থাৎ এক চামচ চিনি যোগ করুন তরকারিতে।
ভিনিগার স্বাদে
টক আর চিনি মিষ্টি, তাই এই দুইয়ের মিশ্রণে
খাবারের নুনের মাত্রা ও তার সাথে খাবারের স্বাদ-গন্ধের ভারসাম্য ঠিক মতো বজায় থাকবে।
আরো পড়ুনঃ রান্নাঘরের টুকিটাকি টিপস
পেঁয়াজ
পেঁয়াজ হলো অন্য একটি উপাদান যা কাঁচা বা ভাজা উভয় উপায়েই তরকারিতে নুনের অতিরিক্ত মাত্রা দূর করতে সাহায্য করে।
তবে দুটি প্রয়োগ করার পদ্ধতি আলাদা আলাদা।
যদি কাঁচা পেঁয়াজ ব্যবহার করেন, তবে একটি গোটা পেঁয়াজ নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে দুই টুকরো করে নিন।
তারপর সেই দুটি টুকরো কিছুক্ষণ তরকারিতে রেখে সরিয়ে ফেলুন।
এতে তরকারির অতিরিক্ত নুনের মাত্রা দূর হয়ে যাবে।
আর ভাজা পেঁয়াজ যদি ব্যবহার করেন তাহলে তরকারিতে অতিরিক্ত লবণের মাত্রা দূর হওয়ার পাশাপাশি স্বাদটাও বাড়বে।
দুটি উপায়েই
দেখবেন খাবারে অতিরিক্ত নুনের ভাব চলে গিয়েছে।
ময়দার বল
খাবারে নুন বেশি হলে তা দূর করতে পারে কয়েকটা ময়দার বল।
সেক্ষেত্রে তরকারির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে কয়েকটা ময়দার বল তৈরি করে নিতে হবে।
এরপর ময়দার বলগুলো তরকারির মধ্যে দিয়ে ফোটান।
কিছুক্ষন পর দেখবেন ময়দার বল গুলো ফোটার পরে দেখবেন বলগুলো পিঠের মতো শক্ত হয়ে গেছে।
এরপর খাবারটি পরিবেশনের আগে ময়দার বলগুলো অবশ্যই সরিয়ে নিতে হবে।
দেখবেন খাবার থেকে নুনের অতিরিক্ত স্বাদ নিমেষেই
উধাও হয়ে গিয়েছে।
পাতিলেবুর রস
সকলের রান্নাঘরেই লেবু থাকে। তরকারিতে রান্নার সময় নুনের পরিমাণ বেশি হলে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস যোগ করে দিন।
কয়েক ফোটা লেবুর রসে খাবার টক হয়ে যাবে না।
এতে খাবারের স্বাদ অপরিবর্তিত থাকবে এবং অতিরিক্ত লবনাক্ত স্বাদটাও কমে যাবে।
তবে দুধ বা দই দিয়ে রান্না খাবারে লবণ বেশি হলে লেবুর রস দেওয়া যাবে না।
এতে লবণাক্ত ভাব আরও বেড়ে যাবে আর খাবারটিও নষ্ট হতে পারে।
আপনি টমেটোর টুকরোও ব্যবহার করতে পারেন এই ক্ষেত্রে।
পান পাতা
যাদের পান খাবার অভ্যেস আছে তাদের বাড়িতে পান পাতা থাকা স্বাভাবিক।
এই পান পাতা তরকারির অতিরিক্ত নুনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
এর জন্য একখানা বড় পান পাতা বোটা সমেত অল্প গরম তরকারির মধ্যে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে তুলে নিলে, সেটি তরকারির অতিরিক্ত লবনাক্ত শোষন করে নেয়।

0 Comments